Menu

টুসু পরব

In Stock

Additional information

মাধ্যম

Share:

Description

টুসু পরব

TUSHU  PARAB
ডাঃ দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়
” টুসু আমার মাগো ,
আলতা পরা পাগো ৷
আমার বর এনে দাও গো ৷৷”
“টুসু ” , মানভূম ও  রাঢ় বাংলার  ফসল ঘরে তোলার উৎসব বা লৌকিক শস্যোৎসব ৷ধানের তুষ থেকে টুসু কথাটা এসেছে ৷ কিন্তু , মানভূমে এলাকায় তুষ কথাটার প্রচলন আগেও ছিল না , এখনও নেই ৷ কুড়মি ও ভূমিজরা তুষকে আগড়া বা ভুষা বলেন ৷আবার কেউ বলেন পুষ্যা বা তিষ্যা নক্ষত্র থেকে হয়েছে এর নাম ৷ মধ্যপ্রাচ্যের “টেসু ” দেবীর মত ৷ পৌষ মাসে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে ধান ওঠে ৷ টুসু কৃষিকেন্দ্রিক সভ্যতার অন্তর ও বাইরের ফসল ৷শস্যদেবী টুসু আসলে রাজকন্যা ৷মনে করা হয় তুসু বা টুসু ছিলেন কুড়মি বংশীয় রাজ বা জমিদার কন্যা৷সুন্দরী টুসুর রূপে মুগ্ধ হয়ে এক অ-মাহাতো জমিদার পুত্র তাঁকে জোর করে বিয়ে করতে গেলে টুসু সূর্বণরেখার জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৷
ঐ জায়গাটি “সতীঘাট ” হিসাবে বিখ্যাত ৷তবে , কুড়মিরা বলেন এর সাথে টুসুর সম্পর্ক নেই ৷ কারণ , কোন মানুষ গরু পরবের দিন মারা গেলে কুড়মিরা পরব করে না ৷তবে , টুসু হয়ে উঠেছে মানব ও প্রকৃতির মিলিত বিগ্রহ , মানভূমি সহ পশ্চিমাঞ্চলের ও জঙ্গলমহলের  কৃষিভিত্তিক লৌকিক দেবী ৷ ক্ষেত্র লক্ষ্মী ৷দুর্গাপুজোর মত সেখানকার প্রধান পার্বন ৷ কুড়মি , ভূমিজ সহ জনগোষ্ঠীর প্রাণের দেবী ৷
বাংলার লৌকিক উৎসব , হিন্দু দেবদেবী , পুজো পাবর্ণ ,ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার লেখা “সনাতনী কৃষ্টিকথা ” ও “হিন্দু ধর্ম ” বই দুটি পড়ুন ও পড়ান ৷ বই দুটি পেতে আমার ৯৭৩২২১৭৪৮৯ নম্বরে ৬০০ টাকা ফোন পে বা গুগুল পে করে হোয়াটস এপে নিজের পুরো ঠিকানা পাঠান ৷ বইগুলি বাড়ীতে ক্যুরিয়ারে পৌঁছে যাবে ৷ এই পুজো শুরু হয় অগ্রহায়ণ মাসের সংক্রান্তির পর দিন থেকে মকর বা পৌষ সংক্রান্তি পর্যন্ত ৷কুমারী মেয়েদের এক মাসের সান্ধ্য পাবর্ণ  ৷ টুসু উৎসবের শেষ চারদিন হল যথাক্রমে চাঁউড়ি , বাঁউড়ি , মকর ও আখান ৷মকর পরব বর্ষ বিদায়ের আর আখাইন যাত্রা বর্ষ বরণের পরব ৷অনেক জায়গায় দেবী টুসুর প্রতিমা হয় না ৷ বান্দোয়ান ও খাতড়ায় অশ্ব বাহিনী বা ময়ূরবাহিনী টুসু মূর্তি হয় ৷
[মূর্তির হাতে শঙ্খ , পদ্ম , পাতা ও বরাভয় মুদ্রার কোন দুটি থাকে ৷ একে অনেকে তুষ তুষলি বা তসলা ব্রত বলে ৷ নানা উপাচারে ও আচরণে পালিত এই পরব / উৎসব/ ব্রতর সমাপ্তি হয় পৌষ মাসান্তে মকর স্নানে ৷ একমাসের আনন্দ শেষ হয় টুসু বির্সজন বা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে ৷ বলে ” এতদিন রাখলাম মাকে ,/ গুঁজি কপাট দিয়ে গ ৷৷/আর রাখতে লাল্লাম মাকে ,/মকর আইল লিতে গ “৷ প্রতিদিন তুলসী পিঁঢ়ার পাশে মাটির কোটর বা দিরখায় সন্ধ্যায় ফুল দেয় ৷ তাই , শেষ পৌষালী সন্ধ্যায় মেয়েরা গান গায় ,” তিরিশ দিন রাখি মা, কে তিরিশটিফুল দিয়ে গ ,/ আর রাখত লারব মা, কে , মকর আল্যো লজিকে “৷ কাঁদো কাঁদো চোখে বলে ” আমার বড়ো মনের বাসনা ,/ টুসুধনকে জলে দিব না “৷
আবার টুসু ভাসনে তাঁরা আশাও দেখে “টুসু গেল ভেসে ,/ ধনদৌলত টাকা কড়ি এলো হেসে “৷এই সময় অবিবাহিত ছেলে -মেয়েদের চলে প্রেমপর্ব ৷বির্সজনের আগের দিন সবাই রাত জাগে ৷ মন্দিরাকৃতির বাঁশের চৌদল  রঙিন কাগজে মুড়ে ঘাটে গিয়ে হয় বির্সজন ৷ চোখের জলে ঘরের মেয়ে টুসুকে জলে ডুবিয়ে দেয় ৷বক্সে তারস্বরে গান বাজে “আমার টুসু মান করেছে , কথা কইবে না করেছে আড়ি আড়ি আড়ি ” , “বাপের বাড়ী রইবেক টুসু , যাবে না শ্বশুরবাড়ী “৷কিন্তু , বাংলার সংস্কৃতিতে পিতৃকুলের চেয়ে স্বামী বা শ্বশুর কুলের গরিমা অধিক ৷ “মা বাপের কুল নাড়ি চারি / শ্বশুরের কুল গেলাসে ভরি “৷ পয়লা মাঘ গ্রামে গ্রামে হয় গরাম ঠাকুরের পুজো ৷ আইখ্যান যাত্রা ৷পঞ্চকোট না কাশীপুর না ঝাড়গ্রাম  কোথাকার এ নিয়ে মতান্তর আছে ৷টুসু পুজোয় কোন পুরোহিত লাগে না ৷ সারা পৌষ মাস ধরে মেয়েরা আদর করে তাঁর পুজো করে ৷তবে , বেশী গুরুত্বপূর্ণ পৌষ মাসের শেষ চার দিন ৷ প্রথম দিন চাঁউড়ি ৷
এদিন ঘরে ঘরে চাল গুঁড়ো করা হয় ৷ঐদিন গোবর-জল ছিটে দিয়ে ঘর পরিষ্কার করা হয় ৷ দ্বিতীয় দিন বাঁউড়ি ৷ ঐদিন ঘরে ঘরে পিঠে পুলি তৈরীর ধূম পড়ে যায় ৷ পুরুলিয়া , বীরভূম , পশ্চিম মেদিনীপুর , ঝাড়গ্রাম ,  বর্ধমান , বাঁকুড়া , ঝাড়খন্ডের সিংভূম , সরাইকেল্লা খরসোয়া  , রাঁচি ,ধানবাদ , হাজারীবাগ    ওড়িশার কেওনঝর , ময়ূরভঞ্জ , সুন্দরগড় জেলায় ও আসামের কিছু চা বাগান এলাকার  কুমারী মেয়েরা পৌষ সংক্রান্তির দিন নতুন জামাকাপড় পরে রাত জাগে ৷ সবশেষে টুসু বা দোলা ভাসিয়ে নদীতে স্নান করে মুড়ি , তেলেভাজা খেতে খেতে বাড়ী ফেরে ৷ছেলেরা খড় , পাটকাঠি , কাঠ দিয়ে ম্যাড়াঘর তৈরী করে চাঁচর বা ন্যাড়াপোড়ার মত আগুন লাগায় ৷বাংলা ভাষা আন্দোলনে “টুসু গানের” বিরাট অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা ৷ মানভূমকে পশ্চিমবঙ্গে আনার জন্য ভজহরি মাহাতোর নেতৃত্বে হয়েছিল টুসু সত্যাগ্রহ ৷ ঐসময় বিহার সরকার তাই টুসু গান নিষিদ্ধ করেছিল ৷ “শুন বিহারি ভাই , তোরা রাখতে লারবি ডাং দেখাই” ৷ সত্যি মানভূমের এই ভাষা আন্দোলনের
ফলে পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত হয় ! টুসু পরবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তার এসব গান ৷ ভনিতা দিয়ে ও ভনিতা ছাড়া দু রকম হয় ৷ ভনিতাবিহীন টুসু গানে মূল টুসু পদ ও টুসু পদের রঙ কখনো মূল পদের অনুসঙ্গে কখনো আলাদা হয় ৷অন্য ধরণের ক্ষেত্রে টুসু পদ থাকে চার চরণের ৷ এর মধ্যে রঙের জন্য নির্দিষ্ট থাকে দুটি চরণ ৷ টুসুতে হয়  হরেক গান বাঁধা , গান চর্চা ও গানের লড়াই ৷ অধিকাংশ গান লেখা হয় না ৷ অনেকেই তো পড়াশুনা জানে না ৷
তবু , গান বাঁধতে ও গাইতে পারে ৷ যাতে উঠে আসে সমাজ , সংসার থেকে রাজনীতি ও জীবনবোধের কথা ৷ ” পৌষ মাস পড়ল টুসু / রাজায় মাগে খাজনা / গায়ের গয়না ঘুচাও টুসু /বুঝাও রাজার খাজনা “৷ অসাধারণ  সমাজ সচেতনতা ! ধর্মীয় অনুসঙ্গে প্রতিবাদের ভাষা ৷ প্রতিবাদী গান ৷ এইতো বাংলার জীবনমুখী গান ৷গানে থাকে মেয়েলি চাহিদা , কলহ ও  ঈর্ষা  ৷ উঠে আসে পণপ্রথা , বধূ নির্যাতন , সাক্ষরতা , মহিলা গোষ্ঠী সম্বন্ধে সচেতনতার প্রচার ৷]

Additional information

মাধ্যম

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “টুসু পরব”

Your email address will not be published.

টুসু পরব

Download(81 KB)

Recently Viewed Products

No recently viewed products to display